বাংলাদেশের দেওয়ানি বিচার প্রক্রিয়ার উন্নয়ন আবশ্যক।

  • আপডেটের সময়: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ সময় দেখুন
ছবি: সংগৃহীত

ইউসুফ শেখ। আইনজীবী ও লেখক।

বাংলাদেশে সিভিল প্রসিডিউর বা দেওয়ানি বিচার প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। দেওয়ানি মামলার ন্যায়বিচারের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত বিচার ব্যাবস্থার নিশ্চিত করতে হবে। সিভিল প্রসিডিউর কোড ১৯০৮, একটি পুরাতন আইন, এর কিছু ধারা ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে সংশোধন ও হালনাগাদ প্রয়োজন।

বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলা জট বহু পুরানো, এর অন্যতম কারণ দেওয়ানি মামলাগুলি ধীর গতিতে সম্পন্ন হয়। একটি মামলা সম্পন্ন করতে যুগের পর যুগ লেগে যায় ও ব্যায় বহুল। দেওয়ানি মামলার দ্রুত নিস্পত্তির জন্য অবশ্যই বাংলাদেশের দেয়নি আদালতগুলোতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি, যেমন মধ্যস্থতা ও সালিশ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে উৎসাহিত করতে হবে।

কেস ম্যানেজমেন্ট ডিজিটাল করতে হবে। মামলার প্রতিটি ধাপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। দেওয়ানি আদালতে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে সহজে ও দ্রুততার সাথে মামলা দাখিল ও নথি জমা দেওয়া যায়। আইনজীবীরা সহজে মামলার শুনানির তারিখ জানতে পারবে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। তাঁদের সময় ও খরচ উভয়ই কমবে।

দেওয়ানি মামলার বিচারকদের নিয়মিত আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। মামলার রায় ও আদেশ অনলাইনে রাখতে হবে, এতে করে বিচার ব্যাবস্থার স্বচ্ছতা বাড়বে। শুধু বিচারক নয়, কোর্ট স্টাফদের দক্ষতাও বৃদ্ধি করতে হবে। তাঁদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে করে তাঁরা সহজে ফাইল হ্যান্ডলিং করতে পারে এবং রেকর্ড ব্যবস্থাপনা সহজে করতে পারে।

ডিজিটাল আদালত ক্যালেন্ডার সিস্টেম প্রবর্তন করতে হবে এবং প্রতিটি মামলার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। অতিরিক্ত মামলার চাপ কমাতে দেশে নতুন দেওয়ানি আদালত স্থাপন করতে হবে এবং বিচারক নিয়োগ দিতে হবে।

আইনজীবীদের মধ্যে ADR ও দ্রুত বিচার সংস্কৃতির প্রচার মিডিয়ার মাধ্যমে করতে হবে। আইনজীবী ও জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তাঁরা অপ্রয়োজনীয় মামলা না করে।

দেওয়ানি মামলার রায় হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে অনেক সময় অনেক বিলম্ব হয়। মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে আলাদা দ্রুত রায় বাস্তবায়ন ব্যবস্থা সেল গঠন করাতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য লিয়াজোঁ অফিসার রাখতে হবে। দেওয়ানি বিচার ব্যাবস্থার উপর গবেষণা করে দেওয়ানি বিচার ব্যাবস্থার দুর্বলতাগুলি খুঁজে বের করতে হবে এবং তা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

Author

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (বিকাল ৪:১৯)