টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘কমিউনিটিজ অফ লিবারেশন’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে ঐতিহাসিক আখ্যানের পুনর্গঠন। রিপোর্টার: আব্দুল হান্নান

  • আপডেটের সময়: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৬ সময় দেখুন
ছবি। ডেইলি সুশাসন

ট্রান্সআটলান্টিক দাস ব্যবসার সময় টাওয়ার হ্যামলেটসে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা এবং তাদের প্রতিরোধের গৌরবময় ইতিহাসকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে আয়োজিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী, যার নাম ‘কমিউনিটিজ অফ লিবারেশন’ (Communities of Liberation)। এই প্রদর্শনীটি কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের উপস্থাপন নয়, বরং এটি ব্রিটেনের ঐতিহাসিক আখ্যানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার একটি সাহসী প্রয়াস। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে এই প্রদর্শনীটি দাসত্বের শিকার হওয়া মানুষদের বাস্তব জীবন, তাদের সংগ্রাম এবং বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের গল্পগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা আগে হয়তো সেভাবে আলোচিত হয়নি। এক অভূতপূর্ব ইতিহাস নিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস লোকাল হিস্টোরি লাইব্রেরি ও আর্কাইভস আয়োজন করেছে তাদের নতুন প্রদর্শনী “কমিউনিটিজ অফ লিবারেশন“ গত ২৬ মার্চ ২0২৬ তারিখে এই অসাধারণ প্রদর্শনীর শুভ সূচনা হয়েছে এবং এটি চলবে আগামী ১৭ অক্টোবর ২0২৬ পর্যন্ত। প্রায় সাত মাসব্যাপী এই আয়োজন উদ্বোধনের দিন থেকেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো অতীতের ভুল ধারণা এবং বর্ণবাদী বর্ণনাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা। এর মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে গভীর আলোচনা ও চিন্তাভাবনার জন্ম দেওয়া, যা বর্তমান সমাজে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। কমিউনিটিজ অফ লিবারেশন’ প্রদর্শনীটি চারটি প্রধান থিমের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যা দর্শকদের দাস ব্যবসার জটিল ইতিহাস এবং এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা দেবে।

মুক্তি (Liberation), এই থিমটি দাসত্ব থেকে মুক্তির সংগ্রাম এবং এর সাথে জড়িত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করে। এটি কেবল শারীরিক মুক্তি নয়, বরং আত্মিক ও সামাজিক মুক্তির ধারণাকেও তুলে ধরে।একটি না বলা গল্প (An Untold Story): ইতিহাসের পাতায় চাপা পড়ে থাকা অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের ব্যক্তিগত গল্প, তাদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিরোধের কাহিনি এই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এটি এমন সব কণ্ঠস্বরকে শোনায় যা এতদিন নীরব ছিল।

টাওয়ার হ্যামলেটস, তখনকার এবং এখনকার স্থান ও পরিসর (Tower Hamlets: places and spaces then and now) এই থিমটি টাওয়ার হ্যামলেটসের ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দাস ব্যবসার প্রভাব এবং সময়ের সাথে সাথে এই অঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে বিশ্লেষণ করে। এটি দেখায় কীভাবে অতীত বর্তমানকে প্রভাবিত করে।

আমার যাত্রা (My Journey), এই থিমটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পরিচয়ের ওপর জোর দেয়। এটি দর্শকদের নিজেদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে সংযোগ স্থাপনে উৎসাহিত করে, যা দাসত্বের উত্তরাধিকার এবং মুক্তির যাত্রাকে আরও ব্যক্তিগত স্তরে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। প্রদর্শনীর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে দর্শনার্থীদের জন্য অডিও কন্টেন্ট, পডকাস্ট এবং ডিজিটাল প্রকাশনা অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ডিজিটাল রিসোর্সগুলো কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই পাওয়া যাবে, যা দর্শকদের প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু সম্পর্কে আরও গভীরে যেতে সাহায্য করবে।

প্রদর্শনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং অন্যান্য রিসোর্স পেতে ভিজিট করুন তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট communitiesofliberation.org.uk। যেকোনো জিজ্ঞাসার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন localhistory@towerhamlets.gov.uk এই ইমেইল ঠিকানায়। কমিউনিটিজ অফ লিবারেশন’ প্রদর্শনী এবং এর আর্কাইভাল উৎসগুলিতে এমন কিছু বিষয়বস্তু ও ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যা সংবেদনশীল হতে পারে। কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় এমন শব্দ বা ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভুল, বর্ণবাদী এবং আপত্তিকর বলে বিবেচিত হতে পারে। এই বিষয়গুলো দর্শকদের সচেতনতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর নেপথ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীটি সফলভাবে আয়োজন করার পেছনে একটি নিবেদিতপ্রাণ দলের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটি বাস্তব রূপ লাভ করেছে।

সহ-প্রযোজকগণ, ডেস সি, ডেনিস ইউ, নাদিন এল, রোক ও, নাটালি এস, জেনেভা এম (এনগেজমেন্ট ও লার্নিং অফিসার)। প্রদর্শনীর নকশা: অ্যান্ডি হেমসলে (ডিজাইনার), হলি গ্রাহাম (ভিজ্যুয়াল ডিরেক্টর), জুডিথ ব্রায়ান (ক্রিয়েটিভ/কপি এডিটর)। গবেষণা ও এনগেজমেন্ট লিড / প্রকল্প সমন্বয়কারী টনি টি ।

গবেষণা ও সৃজনশীল সহায়তাকারীগণ মন্টেল মার্চে (কৃষ্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের গবেষণা), জুডিথ ব্রায়ান (সৃজনশীল লেখা/গল্প বলা), হলি গ্রাহাম (ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট কলেজ), ওয়েল্যান্ড ম্যাক্রোমি (শিশুদের জন্য লেখক), অডিও প্রোডাকশন, মিক্সিং এবং সাউন্ড ডিজাইন। এছাড়াও, ‘কমিউনিটিজ অফ লিবারেশন স্টিয়ারিং গ্রুপ’-এর সকল সদস্যকে তাদের মূল্যবান সমর্থন ও অবদানের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এই সদস্যরা হলেন: কেলি ফস্টার, অ্যালিস্টার গ্রে, সি মার্কস, ডরোথি রিড ও’বুলি, কেরি কাম্বারব্যাচ, জেনেভা এম, সুমাইয়া আলম, তামুন ডুলি এবং জুডি উইলসন।

এই প্রদর্শনীটি টাওয়ার হ্যামলেটসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস, যা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করবে। এই প্রদর্শনীটি উপভোগ করতে কোনো প্রবেশ মূল্য প্রদান করতে হবে না – এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

দর্শনী পরিদর্শনের তারিখ ও স্থান:
সময়কাল: ২৬ মার্চ – ১৭ অক্টোবর ২0২৬. স্থান: টাওয়ার হ্যামলেটস লোকাল হিস্টোরি লাইব্রেরি ও আর্কাইভস। ২৭৭ ব্যানক্রফ্ট রোড, লন্ডন E1 4DQ। (মাইল এন্ড হসপিটালের নিকটবর্তী), প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময়সূচী, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং শুক্রবার: সকাল ১0টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। (তবে, সোমবার ও শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে।) বৃহস্পতিবার: সকাল ১0টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। মাসের ১ম ও ৩য় শনিবার সকাল ১0 টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

রিপোর্টার: আব্দুল হান্নান

Author

এই বিভাগের আরও খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (সকাল ৭:৪৮)